1. admin@ultimatenewsbd.com : adminsr : Admin Admin
  2. afridhasan.ahb@gmail.com : Shah Imon : Shah Imon
সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

তারা চায় বাংলাদেশে গোলমাল লেগেই থাকুক: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ultimatenewsbd.com
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৪২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি মহল চায় বাংলাদেশে সবসময় একটা গোলমাল লেগেই থাকুক। তারা সবসময় এই চেষ্টাই করে। বিএনপি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে কীভাবে- এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

বুধবার (১৭ নভেম্বর) বিকালে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে জিয়ার সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফর সম্পর্কে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। সাংবাদিকরা যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের শাপলা হল থেকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার আমলে ২০০১ সালে বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামায়াত। মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতা অবৈধভাবে দখল করে এই দলগুলো সৃষ্টি করেছে। কাজেই এরা হলো ক্ষমতার ছত্রছায়ার দল। ক্ষমতার বাইরে এদের টিকা থাকার কোনও সম্ভাবনা নাই। এদের শেকড়ে জোর নেই।

তিনি বলেন, পঁচাত্তর সাল থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত বা ২০০৯ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কেন পারেনি এই দেশকে উন্নত করতে? পারেনি একটি কারণে—কারণ তারা বাংলাদেশকে কখনও উন্নত করতে চায়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের যে উন্নয়ন, সারা বিশ্বে বাংলাদেশের একটা সম্মান, একটা মর্যাদা—এটা তাদের কাছে ভালো লাগবে না। আপনারা তো দেখেছেন চলন্ত বাসে আগুন দিয়ে কীভাবে মানুষ পোড়ানো হয়েছে? ২০০১ সালে কীভাবে মেয়েদের রেপ করা হয়েছে, কীভাবে মানুষের ঘরবাড়ি দখল হয়েছে। চোখ তুলে, হাত কেটে হত্যা করা হয়েছে। সেটা তো দেখেছেন? জিয়াউর রহমানের আমলে হয়তো অনেকে ছোট ছিলেন, দেখতে পারেননি। সেই সময় মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, তারা চেষ্টা করে বাংলাদেশে সবসময় একটা গোলমাল লেগেই থাকুক। চেষ্টা তারা প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। এই দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি কে করেছে? কখন হয়েছে? বাংলাভাই কখন সৃষ্টি হয়েছে? এটা তো বিএনপির আমলেই। আমরা আসার পর জঙ্গিবাদ দমন করেছি।

তিনি বলেন, এখন তারা ইলেকশন করে না। এরা ইলেকশন নিয়ে প্রশ্ন তোলে কীভাবে? জিয়াউর রহমান কি ইলেকশন করেছিল?

শেখ হাসিনা বলেন, তারা ২০১৪ সালে নির্বাচন করবে না। নির্বাচন করবে কীভাবে? ইলেকশন করতে হলে যে সাংগঠনিক শক্তির দরকার হয় সেটা যখন নেই তখন তারা আমরা নির্বাচন করবো না বলে নিজেদের দৈন্যতা প্রকাশ করে। তারা জানে, আওয়ামী লীগ তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত উন্নয়ন করেছে, সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়, আওয়ামী লীগ জিতে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব অর্থ চুরি করে নিয়ে বিদেশে আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। সামান্য কিছু টাকা আমরা উদ্ধার করে এনেছি, সেটা খালেদা জিয়ার এক ছেলের টাকা। আর বাকিটা তো আছে। তারা সেখানে ভালোভাবে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের মধ্যে কীভাবে গোলমালটা পাকাবে। আজ এখানে বোমা হামলা, কালকে ওখানে মন্দির ভাঙা, মন্দিরের ওপরে কোরআন শরিফ রাখা—এসব কারা নিয়ন্ত্রণ করে? তথ্য বের হচ্ছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সেগুলো দেখেন। আর সাংবাদিকরা যদি প্রশ্ন করেন ষড়যন্ত্র কোথায়, তাহলে আর যাবো কোথায়? আপনারা কী চান? এই দেশে ইলেকশন না হোক? এই দেশের ইলেকশন প্রশ্নবিদ্ধ থাক? এই দেশের উন্নয়ন কাজ থমকে যাক? থমকে যে যায় তা তো দেখেছেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়াকে যে কারাগার থেকে বাসায় থাকতে দিয়েছি, চিকিৎসা করতে দিয়েছি—এটাই কি বেশি না? আপনাকে যদি কেউ হত্যা করার চেষ্টা করতো আপনি কি তাকে গলায় ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসতেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় এই প্রশ্নটা আমাকে করার জন্য আপনাদের লজ্জা হওয়া দরকার। তারা আমার বাপ-মা, ভাই আমার ছোট রাসেলকে পর্যন্ত হত্যা করিয়েছে। তারপরও আমরা অমানুষ না দেখেই তাকে (খালেদা জিয়া) তার বাসায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দলীয় প্রতীক দেওয়ার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সংঘাত হচ্ছে- কথাটি ঠিক নয়। তবে কোনও সংঘাত গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘কোথাও কোথাও সংঘাত হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ শুধু চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক দিয়েছে। নির্বাচন মেম্বার পদেও হচ্ছে। তাদের মধ্যেও মারামারি হচ্ছে। তাছাড়া অন্যান্য দলও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিএনপি দলীয়ভাবে অংশ না নিলেও তাদের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সুতরাং দলীয় প্রতীক দেওয়ার কারণে সংঘাত হচ্ছে- কথাটি ঠিক নয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের  কেউ  সংঘাতে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সরকার প্রতি বছর ডিজেলে ২৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। উৎপাদন বাড়ানোর সব ব্যবস্থা নিয়েছি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। আমাদের তেল কিনে আনতে হয়।কত টাকা ডিজেলে ভর্তুকি দিতে হয়? ২৩ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎসহ সব মিলিয়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের জন্য সারের দাম আমরা কমিয়েছি। যে সার ৯০ টাকা ছিল তা কমিয়ে ১৫-১৬ টাকা করেছি। কৃষিতে প্রতিটি ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়েছি। কার্ড করে দিয়েছি। এখন কৃষক ১০ টাকায় অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। যার মাধ্যমে ভর্তুকির টাকা সরাসরি তাদের কাছে যায়। করোনার সময় ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি। সুদের হার কমিয়ে অর্ধেক সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিক থাকে। শ্রমিকরা যাতে বেতন পায় তার ব্যবস্থা করেছি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© আল্টিমেট কমিউনিকেশন লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান   ***চলছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম***
Theme Customized BY LatestNews