1. admin@ultimatenewsbd.com : adminsr : Admin Admin
  2. afridhasan.ahb@gmail.com : Shah Imon : Shah Imon
সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

কূটকৌশল নয়, আলোচনার জন্যই বিএনপিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ultimatenewsbd.com
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩
  • ৫৮

আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া চিঠির কোনও জবাব এখনও দেয়নি বিএনপি। তবে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির দুই দফায় সংলাপ বর্জন করা দলকে চিঠি দেওয়া নিয়ে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘অনেকে বলতে চেয়েছেন, এটা সরকারের একটি কূটকৌশল। আমি আপনাদের মাধ্যম পুরো জাতিকে অবহিত করতে চাই, আশ্বস্ত করতে চাই- এই পত্রের সঙ্গে সরকারের কোনও সংশ্লিষ্টতা ছিল না। কেউ যদি এটাকে কূটকৌশল হিসেবে মনে করতে চান, তাহলে এটা নির্বাচন কমিশনের কূটকৌশল হতে পারে; সরকারের নয়। আর নির্বাচন কমিশন কখনও কূটকৌশল হিসেবে এই কাজটি করেনি।’

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই চিঠি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন সিইসি। এসময় চার নির্বাচন কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপিকে চিঠি দেওয়ার পাঁচ দিন পর আজ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতেই এই জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

এসময় সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সংলাপের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, অনানুষ্ঠানিক আলোচনার জন্যই চিঠি দেওয়া হয়েছে। মূল জিনিসটা হলো— আমরা কিন্তু সংলাপে আহ্বান করিনি, সংলাপ বিষয়টি আনুষ্ঠানিক। আমরা কোনোভাবেই উনাদের (বিএনপি) সংলাপে ডাকিনি। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলেছি— আনুষ্ঠানিক না হলেও, আনুষ্ঠানিক মানে সংলাপ; অন্তত অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় আপনারা আসতে পারেন। অত্যন্ত বিনীতিভাবে এ আহ্বানটা করেছি।’

গত বছরের শুরুতে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে দুই দফায় সংলাপ আয়োজন করে। কিন্তু সেই সংলাপ বর্জন করে বিএনপি। পাশাপাশি দলটি এখনও ‘নির্দলীয় সরকার’-এর অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সেই দাবি বাস্তবায়নের সম্ভাবনার কথা বরাবরই নাকচ করা হচ্ছে। এমন অবস্থার মধ্যেই গত ২৩ মার্চ বিএনপিকে আলোচনায় অংশ নিতে চিঠি দেয় ইসি। তবে ইসির পক্ষ থেকে বৈঠকের কোনও সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। বিএনপি আলোচনায় সম্মত কিনা জানতে চাওয়া হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল এক ডিও লেটার (আধা-সরকারিপত্র) দিয়ে বিএনপি মহাসচিব ও দলের দলের নেতাদের মতবিনিময়ের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বিএনপি চাইলে ওই মতবিনিময়ে সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতারাসহ অংশ নিতে পারেন বলেও এতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এমন হঠাৎ উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা হচ্ছে। বিএনপিকে ভোটে আনতে এই চিঠির পেছনে সরকারের ‘ইন্ধন আছে’ এমন কথাও আকার-ইঙ্গিতে বলা হচ্ছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে এমন এসব সমালোচনার জবাবে সিইসি বললেন, ‘বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানোয় সরকারের কোনও সংশ্লিষ্ট নেই। দলটিকে আলোচনায় ডাকার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।’

সিইসি বলেন, ‘আমরা বৃহস্পতিবার শেষ বেলা চিঠিটা দিয়েছিলাম। আমার মনে হয় উনারা পেয়েছেন। আমার কাছে কোনও জবাব আসেনি, ধরে নিচ্ছি উনারা পেয়েছেন।’

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) শুরু থেকেই ‘অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ নির্বাচন প্রত্যাশা করে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইসি মনে করে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, নির্বাচনের স্বার্থে, দলীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে দলগুলোর নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রয়োজন।’

সংসদীয় গণতন্ত্রে দলীয় শাসনটাই মুখ্য বলেও মন্তব্য করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। তিনি বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে সরকার গঠন কখনও সম্ভব হয় না। দলগুলোর চর্চার মাধ্যমে তা বিকশিত হোক, গণতান্ত্রিক সরকার সংহত হোক— এটা চেষ্টা করা হয়েছে। এটুকুই স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য (এ ব্রিফিং); যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকে সেটা যেন নিরসন হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘চিঠি কমিশন থেকে দেওয়া হয়েছে, সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী নয়। আমরা ব্যথিত হই— যখন বলা হয় সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করি… আজ্ঞা বহন করিনি। আমরা নির্বাচন বিষয় নিয়ে আলাপ করে আমাদের চিন্তার মধ্যে ফুটে উঠেছে— বিএনপির মতো দলকে নির্বাচনকে আনতে পারলে ভালো হয়।’

বিএনপির সঙ্গে আলোচনার আগ্রহের কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, আমরা বলেছি— আপনাদের (বিএনপির) কৌশল থাকলে তার উপর ইসির কোনও মন্তব্য থাকবে না। তারপরও আমরা আলোচনা করতে চাই আপনাদের সঙ্গে। ফল ইতিবাচক হতেও পারে, নাও হতে পারে। প্রয়াস থাকবে, প্রয়াস গ্রহণ করতে বাধা থাকা উচিত নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমরা কোনও চিঠি (জবাব) পাইনি। আমি চিঠি দিয়েছি, যে কোনও রেসপন্স (জবাব দিলে) আমাদের চিঠির মাধ্যমে দিতে হবে। …আমরা আশা করি, যেহেতু মহাসচিব মহোদয়কে চিঠি দিয়েছি। যে কোনও বক্তব্য আমাদের কাছে পত্রের মাধ্যমে আসবে, সেটাই কাঙ্ক্ষিত। এরপর আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেবো। আগাম কোনও মন্তব্য নেই।’

বিএনপি যদি আসে কী আলোচনা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘সেটা সে সময় বলা যাবে। উনারা কী বলবেন, আমরা কী বলবো- আগাম কোনও বক্তব্য দিতে পারবো না।’

বিএনপির সঙ্গে আলোচনার জন্যে এজেন্ডা ঠিক করে দিলেও তা নিয়ে বসতে চান জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘উনারা যদি এজেন্ডা ঠিক করে দেয়, তখন আমরা কী করবো— তা কমিশন সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানান, ‘কমিশনের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, সব কমিশনারই জানেন। সিইসির পত্র নয়, সিইসি লিখেছেন, কিন্তু কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।‘

কূটনৈতিক মহলে সংলাপ আয়োজনের আলোচনার মধ্যে এমন চিঠি দেওয়া কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘এ ধরনের বিষয় আমাদের নলেজে নেই। আমাদের চিন্তা থেকে উদ্ভূত সিদ্ধান্ত থেকেই এ চিঠি দেওয়া হয়েছে। চাপের কথা যেটা বলেছেন, এটা সম্পূর্ণ অমূলক ধারণা। কতক্ষণ পর পর চাপ দেবে আর আমরা দেবে যাবো— এটা হওয়ার কথা নয়।’

বিএনপির চিঠি জবাব পেতে কতদিন অপেক্ষা করবে কমিশন, এ নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এড়িয়ে যান সিইসি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© আল্টিমেট কমিউনিকেশন লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান   ***চলছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম***
Theme Customized BY LatestNews